ফাইনালের স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেলো টাইগারদের

দাপট নিয়ে শরু করা ত্রিদেশীয় সিরিজটির ফাইনালে ৭৯ রানে হেরে গেলো টাইইগাররা।

এ নিয়ে ৪ বার ফাইনালে খেলে হারলো তারা। ফাইনালটা অপয়াই থেকে গেলো তামিম-সাকিবদের জন্য।

শনিবার মিরপুরের হোম অফ ক্রিকেটে শিরোপা নির্ধারক ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করা শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২১ রান করে। জবাবে ৪১ ওভার ১ বলে ১৪২ রানে নয় উইকেট হারায় স্বাগতিক শিবির। ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া সাকিব আল হাসান আর ব্যাট করতে পারেননি।

২২২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দলীয় ১১ রানে লঙ্কান পেসার দুশমান্থা চামিরার বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ধনাঞ্জয়ার ক্যাচ হয়ে ফেরেন ওপেনার তামিম ইকবাল। রান আউটের শিকার হয়ে প্যাভিলিওনে ফেরেন আরেক ওপেনার মোহাম্মদ মিঠুন।

চামিরার দ্বিতীয় শিকার হয়ে ব্যক্তিগত দুই রানে অনসাইডে শট খেলতে গিয়ে গুনারত্নের ক্যাচে পরিণত হন সাব্বির রহমান।

ত্রিদেশীয় সিরিজের সর্বশেষ তিন ম্যাচের দুটিতেই সুইপ শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন তিনি। ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২২ রানে তিন উইকেট হারিয়ে দল যখন কঠিন চাপের মুখে তখন মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে হাল ধরেন মুশফিক। তাদের জুটিতে ভর করে একটা সময়ে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীরা। তার আউটের মধ্য দিয়ে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

দলের একমাত্র হাল ধরে খেলা মাহমুদউল্লা রিয়াদ চেষ্টা করে যান। তবে ৪২তম ওভারে মাদুশাঙ্কার বলে থারাঙ্গাকে ক্যাচ দিয়ে তিনি ফিরলে শেষ হয় বাংলাদেশে ইনিংস। ৯২ বলে ছয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় ৭৬ করেন তিনি।

শুরুতেই কুসাল মেন্ডিসের ঝড়ো সুচনা। ৯ বলে ৩ ছক্কা ও ২ বাউন্ডারিতে ২৮ রান করেন তিনি। তবে টাইগার অধীনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তুজা তাকে থামিয়ে দেন। বলের লাইন লেনথ ঠিকমত বুঝতে না পেরে পুল করায় মাহমুদুল্লার তালুবন্দি হয় বল।

অন্যদিকে ইনিংসের প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন দলে ডাক পাওয়া মেহেদি মিরাজ। কিছূটা তাড়াহুড়া করে ধানুস্কা গুনাথিলাকা লং অনে ব্যাট চালালে তামিম ইকবালের তালুবন্দি হন তিনি। নির্ধারিত ১০ ওভারে টানা বল করে ৫২ রান দেন তিনি।

ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ওভারে নিরোসান ডিকওয়েলাকে ফেরান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। খাটো লেন্থের বলে লিডিং এজ হয়ে মাহমুদুল্লার তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ইনিংসের ৩০ তম ওভারে রানের গতি বেশ মন্থর হয়ে এসেছে লংকানদের।

থারঙ্গাকে এলবিডাব্লিউর ফাদে না ফেলতে পারলেও পরের বলে বোল্ড করে একদিনের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ৫০ উইকেট পাওয়া আব্দুর রাজ্জাকের রেকর্ড ভাঙ্গেন মোস্তাফিজুর রহমান।

তামিমের ক্যাচ বানিয়ে হার্ডহিটার থিসারা পেরেরাকে দুই রানে ফেরান টাইগার হার্ডহিটার রুবেল হোসাইন। আসেলা গুনারত্নেকে ব্যক্তিগত ছয় রানে এলবির ফাঁদে এবং অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালকে ৪৫ রানে ও ৭ রানে থাকা শেহান মাদুশাঙ্কাকেও বোল্ড করেন তিনি।

ইনিংসের শেষ বলে সুরাঙ্গা লাকমাল রান আউট হন উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের থ্রোতে।

কামরুল হাসান শিবলী (প্রতিবেদক), মাঠের খেলা

 

 

Be the first to comment on "ফাইনালের স্বপ্ন, স্বপ্নই রয়ে গেলো টাইগারদের"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*