প্রথমবারেই সাফ চ্যাম্পিয়ান হয়ে বাজিমাত বাংলাদেশী কিশোরীদের

শামসুন্নাহারের একমাত্র গোলে সাফ অনূর্ধ্ব১৫ মহিলা ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছে স্বাগতিকরা

প পর্যায়ে অপ্রতিরোধ্য বাংলার কিশোরীদের আটকানো যে কতটা কঠিন তা গ্রুপ পর্বের ম্যাচেই টের পেয়েছে শক্তিশালী ভারত। পুরো টুর্নামেন্টে কোনো গোল না খেয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। নেপালকে ৬-০, ভুটানের বিপক্ষে  ৩-০ ব্যবধানের জয় এবং লিগের শেষ ম্যাচেও ভারতকে ৩-০ গোলে হারিয়ে উড়তে থাকা বাংলাদেশই ফাইনালে এগিয়ে থাকবে তা আগেই বুঝতে পেরেছিলো ভারতীয় কোচ।

রবিবার কমলাপুর মোস্তফা কামাল স্ট্যাডিয়ামে দুপুর ২টায় আরম্ভ হওয়া এই ম্যাচে ৪১ মিনিটে বাংলাদেশী ফরায়ার্ড সামসুন্নাহারের একমাত্র গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।


শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দিতে থাকে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ মিনিটে আনুচিং মোগিনির হেড ক্রসবার মিস করে। ২২তম মিনিটে আবারও আনুচিংয়ের মিস হতাশ করে হাজার দশেক দর্শককে। একা পেয়েও গোলরক্ষকের গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। তবে  দর্শকরা ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ স্লোগানে গ্যালারি মাতিয়ে রাখলে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ৪১তম মিনিটে পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত গোল।  ডান দিক থেকে শামসুন্নাহারের বাড়ানো বলে আনুচিংয়ের শট গোলরক্ষক ফেরানোর পর ফিরতি শটে লক্ষ্যভেদ করেন শামসুন্নাহার। টুর্নামেন্টে এ নিয়ে দ্বিতীয় গোল করলেন এ ডিফেন্ডার। স্ট্যাডিয়ামে উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাগতিক দর্শকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৭ এবং ৬১ মিনিটে সুযোগ মিস না করলে ব্যবধানটা আরো বাড়তে পারতো স্বাগতিকদের। ম্যাচের শেষে   মনিকার ক্রসে ঋতুপর্না ও শামসুন্নাহার কেউই গোলের সুযোগ পেলেও জালের দেখা না পাওয়ায় একমাত্র গোলের জয় নিয়ে শিরোপা জিতে যায় তহুরা-সামছুন্নাহাররা।

ম্যাচ শেষে শামসুন্নাহার বলেন, ‘আজকের গোলটি আমার কাছে বিশেষ কিছুই। যেহেতু এই গোলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।’

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ডিফেন্ডার আঁখি খাতুন জানালেন আগামীতে আরও ব্যক্তিগত পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। “আমি প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছি। আমার টিমের সবাই খুশি। আমাদের কোচও খুশি। ম্যাচের আগে ভালো খেলার ইচ্ছা ছিল। সবাই ভালো খেলেছে।”  অাখি জানান, “ভাবিনি এই ট্রফি আমি জিতব। ট্রফিটা আমার বদলে দলের অন্য কেউ পেলেও আফসোস থাকত না। আমরা জিতেছি এটাই বড় কথা। এরপর এর চেয়ে বড় ট্রফি জিতব।”

ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মারিয়া শিরোপা উৎসর্গ করেন গত সেপ্টেম্বরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া সতীর্থ সাবিনাকে।

তোফায়েল আহমেদ খান (প্রতিবেদক), মাঠের খেলা

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *