Dhoni- The Captain Cool

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে এম এস ধোনি ওডিআই এবং টি-টুয়েন্টিতে অধিনায়কত্ব করা থেকে অব্যাহতি নেন। ২০০৭সালের টি-২০ বিশ্বকাপ, ২০১২  সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, আইপিএল ২০১০, ২০১১ এবং চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ২০১০ এবং ২০১৪ তে ধোনি বেশ কয়েকটি শিরোপা জিতেছিলেন।

সীমিত ওভারের খেলায় প্রায় সবগুলোতেই তিনি শিরোপা জিতেছিলেন। পাশাপাশি টেস্ট সিরিজগুলোতেও তিনি অনেক বেশি  সাফল্য অর্জন করেছিলেন। একজন উইকেটকিপার, শক্তিশালী ব্যাটসম্যান ও একজন ক্যাপ্টেন হিসেবে তার কৌশলগুলির জন্য এমএস বেশি জনপ্রিয় ছিলেন । নিচে তার কিছু কৌশল যেগুলো তিনি মাঠে ব্যবহার করতেন তা উল্লেখ করা হলো।

১. স্লিপ লেগ নেয়া

পুরাতন দিনের খেলায় যেমন লেগ স্লিপে একজন ফিল্ডার থাকতো তেমনি এম এস ধনি তার খেলায় সবসময় একজন লেগ স্লিপ রাখত। এতে করে ইন্ডিয়ান দলের অনেক রান সেভ হত এবং অনেক অপ্রতাশিত উইকেটও লাভ করতেন। বিশেষ করে স্পিন বোলিঙের সময় এটা খুবই কাজে দিত।

২. স্পিনারদেরকে কাজে লাগানো

ধোনী স্পিনারদের দিয়ে অ্যাটাক করাতে খুব পছন্দ করতেন, বিশেষ করে লেগ স্পিনার। প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটিং এর তান্ডব ঠেকাতে তিনি সবসময় স্পিনারদের ব্যাবহার করতেন। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রবিন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে শেষ ওভারের মতো গুরুতপূর্ণ সময়ে বল করিয়ে স্পিনের প্রতি তার অগাধ আস্থার বিষয়টি তিনি প্রমান করেছেন। এম এস ধোনী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি স্ট্যাম্পিং করার রেকর্ড অর্জন করেছেন। তিনি মোট ১৬৬ টি স্ট্যাম্পিং করেছেন। এর মধ্যে প্রায় সবগুলো স্ট্যাম্পিংই ছিল স্পিন বলে।

৩. ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করা

২০১১ সালের শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালে বিরাট কোহেলিকে আউট করার পর শ্রীলংকানদের প্রত্যাশা ছিল ফরমে থাকা যুবরাজ সিংকে আউট করা। কিন্তু অধিনায়ক চাননি মুরালিধরনের মতো বিপদজনক স্পিনের সম্মুখিন হোক যুবরাজ। ধোনী নিজেই মুরালিধরনের বেশিরভাগ বল খেলে যুবরাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। সেই ম্যাচে যুবরাজ ৭৯ বলে ৯১ রানের এক বিশ্বকাপ জয়ী ম্যাচ উপহার দিয়েছিল। শুধু এটাই না, তিনি ম্যাচের পরিস্থিতির উপর পর্যবেক্ষণ করে ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করতেন।

৪. অপ্রতাশিত বোলার পরিবর্তন

২০০৭ সালে পাকিস্থানের বিরুদ্ধে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যোগিন্দার শর্মার হাতে বল দেখে ইন্ডিয়ান ভক্তরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। কারন তখন খুবই গুরুত্ব পূর্ণ সময় ছিল। মাত্র ৬ বলে পাকিস্থানের দরকার ছিল ১৩ রান এবং ব্যাটিং এ ছিল মিসবাহ-উল হক। পাকিস্থানের জন্য এটা ছিল বাচা-মরার লড়াই। এবং সেই যুদ্ধে পাকিস্থানকে পরাজিত করে ইন্ডিয়ান এই অধিনায়ক বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো।

৫. ফিল্ডারদের ঘনঘন পরিবর্তন করা

ক্রিকেট মাঠের প্রত্যেক কোনা বুঝতে পারাটা একটা অধিনায়কের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে মাঠে ফিল্ডার সাজাতে অনেক সহজ হয়। এবং এম এস ধোনী ছিলেন এ ব্যাপারে খুবই পারদর্শী। এজন্যই তার ফিল্ডিং সাজানোটা খুবই কার্যকর ছিল। এতে করে প্রতিপক্ষ দল বেশি রান করতে পারত না। ২০১০ সালে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ানের অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড বিপদে পড়েন যখন চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক এম এস ধোনী খেলোয়াড়দের ফিল্ডিং পজিশন পরিবর্তন করেন। এর ফলে কাইরন পোলার্ড আর সুবিধা না করতে পেরে মিড অফে ম্যাথিউ হেডেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেয়।

মানিক ইমদাদ (প্রতিবেদক), মাঠের খেলা

Be the first to comment on "Dhoni- The Captain Cool"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*