টেস্ট ক্রিকেটের নজরকাড়া বোলিং

বিগত বছর গুলোতে এমন অনেক ফাস্ট বোলার রয়েছে যারা তাদের ফাস্ট বলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে সম্পূর্ণ ভাবে পরাজিত করেছেন।

অনেক ক্ষেত্রে  ফাস্ট বোলাররা শুধু গতিই নয়, সুইং, রিভারস, বাউন্সারসহ অন্যান্য কৌশলও প্রয়োগ করে থাকেন।  টেস্ট ক্রিকেটে  এমন ৫ জন ফাস্ট বোলারকে তুলে ধরা হল।

৫. স্টুয়ার্ট ব্রড, প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, নটিংহাম, ২০১৫

২০১৫ সালের আসেজে ৪র্থ ম্যাচের ১ম দিনে স্টুয়ার্ট ব্রডের ফাস্ট বোলিং বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।এটি টেস্ট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ওই দিন প্রথম সকালে  স্টুয়ার্ট ব্রড ৯ম ওভারে প্রতিপক্ষ দলকে আক্রমন শুরু করে। জেমস এন্ডারসনের অনুপস্থিতিতে ব্রড ঐ খেলায় সবচেয়ে বিধ্বংসী বল করেছিলেন।

ঐ ম্যাচের ৩য় বলে  ক্রিস রজারকে আউট করেন এবং এরপর থেকে তিনি একের পর এক উইকেট নিতে থাকেন। অস্ট্রেলিয়ানরা বুঝতে পারছিলোনা এটা কি হচ্ছে। স্টুয়ার্ট ব্রডের গতি এবং সঠিক সুইং এর কারণে অস্ট্রেলিয়ানরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। ঐ দিন স্টুয়ার্ট ব্রডের বোলিং ফিগার ছিল ৮-১৫ এবং অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ১৮.৩ ওভারে ৬০ রান।

৪. মিশেল জনসন, ২০১৩

২০১৩-১৪ সালের অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত অ্যাসেজ সিরিজ মিশেল জনসনের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে তার অসাধারন বোলিংয়ের জন্য। তিনি মোট ৩৭ টি উইকেট নেন ঐ সিরিজে। তার অসাধারন গতির বোলিং এবং বাউন্স এর কাছে হার মানে ইংল্যান্ড দল। প্রথমে তিনি অ্যালেস্টার কুকের উইকেট নেন এবং মধ্যাহ্ন বিরতির পর তিনি ইংল্যান্ডের সকল মিডল অর্ডার ও লো অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের আউট করে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠায়। তিনি তিন অভারের মধ্যে ৫ উইকেট তুলে নেন যার মধ্যে ১ ওভারেই নেন ৩ টি উইকেট ।

৩. কার্টলি অ্যামব্রোস, পোর্ট অফ স্পেন, ১৯৯৪

যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুবই ভালো একটি দল ছিল ঠিক তখনই ১৯৯৪ সালে পোর্ট অব স্পেনে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক জয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৯৪ রান। কিন্তু কার্টলি অ্যামব্রোসের বিধ্বংসী বলের কাছে তারা পরাজিত হয়। অ্যামব্রোসের ১০ ওভারের বোলিং এ ইংল্যান্ড দল দিশেহারা হয়ে গিয়েছিল । ইংল্যান্ড এই ইনিংসটিতে ১৯.১ ওভার পর্যন্ত টিকে ছিল। ১ম ইনিংসে এই গতিদানব টপ স্কোরার গ্রাহামকে ফেরত পাঠালে ইংল্যান্ড চাপের মুখে পড়ে এবং তার অসাধারন বোলিংয়ে কাছে তারা পরাজিত হয়।

২. শোয়েব আখতার, কলম্বো ২০০২

যখন শোয়েব আখতারের পারফর্মেন্স ভালো ছিল তখন তার দ্রুত গতির বলের সামনে যেকোন ব্যাটসম্যানই ঘাবড়ে যেতো। ১৮৮ রানে পিছিয়ে থাকার পর পাকিস্থানের দরকার ছিল অস্ট্রেলিয়াকে অল্প রানে ফেরত পাঠানো। কিন্তু কাজটা পাকিস্থানের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছিলো। শোয়েব আখতারের বোলিংয়ে আসার আগে হেডেন ও পন্টিং সুন্দরভাবে খেলছিল। কিন্তু শোয়েব এর ৮ ওভার এর বিধ্বংসী বোলিং এর কারণে তাদের স্কোর দাড়ায় ৮৯-৭। পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়াকে ১২৭ রানে অল আউট করলেও দুর্ভাগ্যবসত পাকিস্থান ৪১ রানে ঐ টেস্ট এ পরাজিত হয়।

১. কার্টলি অ্যামব্রোস, ১৯৯৩

ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৫ম খেলার ১ম ইনিংসে ফাস্ট বোলিং এর সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটায় অ্যামব্রোস। প্রথম দিনেই তিনি প্রতিপক্ষকে গুড়িয়ে দেন। অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা ভালোই ছিল এবং তাদের স্কোর ছিল ৮৫-২। অ্যামব্রোস বোলিংয়ে আসার পর তার অসাধারন বোলিং এর সামনে কোন ব্যাটসম্যানই টিকে থাকতে পারেনি।  তারা ১১৯ রানে অলআউট হয়ে যায় এবং অ্যামব্রোসের এর সংগ্রহ ছিল ৭ ঊইকেট।

মানিক ইমদাদ (প্রতিবেদক), মাঠের খেলা

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *